Header Ads Widget

AMAZON

শিরক কি ? আমাদের সমাজের প্রচলিত শিরক গুলো কি কি এবং তার ভয়াবহতা কি ?

                                                            

                          আমাদের সমাজের প্রচলিত শিরক  গুলো







 শিরক কি ?



১। দুনিয়ার সবচেয়ে বড় অপরাধ হচ্ছে “শিরক”। [বুখারী হা/৬৯১৯]   


২। হে রাসুল আপনিও যদি শিরক করেন তাহলে আপনার যাবতীয় আমল অবশ্যই বরবাদ হয়ে যাবে। এবং আপনিও ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবেন। [যুমার -৬৫]  


৩। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যাক্তি আল্লাহর সাথে বিন্দুমাত্র শরিক করবে সে জানহান্নামে যাবে। [মিশকাত হা/৩৮]


৪। নিশ্চয়ই আল্লাহ তার সাথে শরিক করাকে ক্ষমা করবেন না। শিরক ছাড়া অন্য গোনাহ যাকে ইচ্ছা করেন ক্ষমা করেন। [নিসা-৪৮]


🛑 সমাজে প্রচলিত শিরকসমূহঃ


১। অদৃশ্য বিপদে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন ব্যাক্তি,পীর-বুজুর্গ, ইমাম, কোন মৃত ব্যাক্তি এমনকি নবি রাসূলের কাছে সাহায্য চাওয়া শিরক। এই ব্যাক্তিদের সম্মান দেখানোর জন্য তাদের কবরের সামনে সালাত আদায় করা,সিজদা করা কিংবা তাদের কবরকে চুমু খাওয়া শিরকের অন্তর্ভুক্ত। [আনফাল-৯, আরাফ-১৯৪, নাহল-২১,ফাতিহা-৫, আল আহকাফ-৫, ইউনুস-১০৭, তিরমিজি হা/২৫১৮] এছাড়া তারা পরকালে আল্লাহর অনুমতি ব্যতিত সুপারিস করতে পারবেই, কবরের সওয়াল জবাব দিয়ে দেবে,জান্নাতে নিয়ে যাবে, পুলসিরাত পার করে দেবে এমন বিশ্বাস রাখাও শিরক। [যুমার-৪৪,বাকারা-২৫৫, নামল-৬২, হাজ্জ-৭৩, ফাতির-১৩] 


২। “আপনার উপরই আমার ভরসা, আপনি ছিলেন বলেই আজকে রক্ষা পেলাম, মাঝি ভালো বলেই নৌকা ডুবলো না, ড্রাইভার ভালো ছিল বলেই একসিডেন্ট হলো না, আপনি ছাড়া আর কে সাহায্য করবে, ছেলেটা/মেয়েটা অকালে মারা গেলো, তার এই মৃত্যুটা মেনে নেওয়া যায় না, ডাক্তার ভালো বলে রোগী বেঁচে গেল, মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়া, আপনি ভালো থাকবেন ” এই রকম বাক্য বলা শিরক কারণ আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও উপর ভরসা করা বা জীবন মৃত্যু অন্য কারও হাতে মনে করা, আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কেউ নিজে নিজে ভালো থাকতে পারে এরকম মনে করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। [মায়িদা-২৩, ফুরকান-৩,যুমার-৪২]     


৩। আল্লাহ নিরাকার এমন বিশ্বাস রাখা শিরক। [সোয়াদ-৭৫, ত্বাহা-৩৯,মায়েদা-৬৪, কলম-৪২, বাকারা-১১৫, আর রাহমান ২৬-২৭, বুখারী হা/৪৯১৯, মিশকাত হা/৫৫৪২]


৪। আল্লাহ সকল মুমিনের অন্তরে, সকল স্থানে, সকল বস্তুর মধ্যে, মানুষের ডান কাধে অবস্থান করেন এমন বিশ্বাস করা শিরক। কারণ আল্লাহ আরশের উপর সমুন্নিত। [মুলক ১৬-১৭, ত্বাহা-৫] 


৫। আল্লাহ ছাড়া কেউ (যেমন গণক,পীর,বিভিন্ন বাবা) হাত দেখে ভাগ্য বলতে পারে,গায়েব বা অদৃশ্যের খবর জানে, হাত চালান বা বাটি চালান করতে পারে,গ্রহ উপগ্রহ বা রাশিফল নির্ণয়ের মাধ্যমে কল্যাণ অকল্যাণ বলতে পারে বা ভবিষ্যৎ জানে ও বলতে পারে ইত্যাদি বিশ্বাস করা শিরক। এমনকি “তোর কপালে দুঃখ আছে, আমার শনির দশা চলছে, তোর ভবিষ্যৎ অন্ধকার” এই জাতীয় ভবিষ্যৎ বাণী মূলক মন্তব্য করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। [ইউনুস ৬১, সুরা নামল-৬৫, বাকারা-১০২, ত্বাহা -৬৯, আরাফ ১৮৮, জ্বিন- ২৫-২৬, আনআম-৫৯, বাকারা-৩৩, মুসলিম হা/২২৩০, আবু দাউদ হা/ ৩৯০৪, মুসনাদে আহমাদ]     


৬। কোন ব্যাক্তিকে,পীরকে বা নবি রাসূলকে ওসীলা করে দোয়া চাওয়া শিরক। [আরাফ- ১৯৪] 


৭। আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন ব্যাক্তি বা বস্তুর নামে কসম কাটা শিরক। যেমনঃ মসজিদ,কুরআন,মাথা,চোখ,ভাত,মা-বাবা ইত্যাদির নামে কসম করা। [আবু দাউদ হা/৩২৫১, তিরমিজি হা/১৫৩৫, ফাতহুল বারী; ১১/৫৩০ পৃঃ, মুসনাদে আহমাদ] 


৮। কোন ধরনের অসুখ,বদনজর, বাঁতের ব্যাথা ইত্যাদি অসুখ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য সোনা,রুপা,তামা,পাথর,তাবিজ (তামিমা),মাদুলি,বালা,সুতা ইত্যাদি ব্যবহার করা শিরক।  [আনআম-১৭ ,মুসনাদে আহমদ; ৪/১৮৬, তিরমিজি, আবু দাউদ, হাকেম]


৯। কোন ব্যাক্তির প্রতি অতিরিক্ত শ্রদ্ধা দেখাতে গিয়ে মাথা নোয়ানো, পায়ে হাত দিয়ে সালাম করা শিরক। [কাছিদাত বুরুদা পৃঃ৩৪]


১০। আল্লাহ ব্যাতিত কোন দেবতা,মূর্তি,ভাস্কর্য,মাজার,সৌধ ইত্যাদির উদ্দেশ্যে ফুল বা কোন কিছু পেশ করা শিরক। এবং এগুলোকে সম্মান দেখানোর জন্য বিভিন্ন আয়োজন করা শিরক। যেমনঃ নিরবতা পালন করা। [মুসনাদে আহমাদ; কিতাবুয যুহদ] 


১১। আল্লাহর দেওয়া আইন বা হুকুমের বিপরীতে কোন আইনকে উত্তম মনে করা শিরক। [নিসা ১০৫, আনআম ৬২, মায়িদা- ৪৭]


১২। খোদা,মওলা বলে আল্লাহকে ডাকা মোট কথা আল্লাহর দেওয়া গুণবাচক নাম ব্যতিত অন্য কোন নামে ডাকা শিরক। [আরাফ-১৮০,ইসরা-১১০]


১৩। কুরআন হাদিসে যে দিন/সময়/মূহুর্ত সম্পর্কে কোন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি সেই সকল দিন/সময়/মুহূর্তকে উৎযাপন করা কিংবা বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া শিরক। যেমনঃ জন্মদিন, স্বাধীনতা দিবস, শোক দিবস, পহেলা বৈশাখ ইত্যাদি দিবস পালন করা শিরক।কারণ ইসলামে এর কোন ভিত্তি নেই। [আবু দাউদ হা/৪০৩১, নাসাঈ হা/১৫৫৬, আবু দাউদ হা/১১৩৪]  


১৪। যে ব্যক্তি সালাত ছেড়ে দিবে সে শিরক করবে। [ইবনে মাজাহ হা/১০৮০] 


১৫। আল্লাহ সাথে অন্য ব্যাক্তিকে শরিক সাব্যস্ত করা। যেমনঃ আমি আল্লাহর নিকট এবং তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি, আল্লাহ আর তুমি ছাড়া আমার আর কেউ নেই, এটা আল্লাহ এবং আপনার পক্ষ থেকেই হয়েছে, আসমানে আল্লাহ আর যমীনে তুমি ছাড়া আমার আর কেউ নেই ইত্যাদি বাক্য বলা সরাসরি শিরক। এছাড়া অনেকক্ষণ বসে থাকার পর উঠে দাড়ানোর সময় বাবাগো,মাগো,ইয়া আলি, ইয়া রাসুল, ইয়া খাজা, ইয়া বাবা ইত্যাদি শব্দ উচ্চারণ করাও শিরক। কারণ প্রতিটি মুহূর্তে,সুখে-দুঃখে, বিপদে আপদে সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করতে হবে। অন্য কাওকে ডাকা যাবে না।  [ নাসাঈ হা/৯৮৮, ফাতহুল বারী; ১১/৫৩০, বুখারী হা/৭৮৩, মুসনাদে আহমাদ] 


১৬। 

কোন ধরনের কুলক্ষণ বিশ্বাস করা,কোন ব্যাক্তি বা জায়গাকে কুফা মনে করা শিরক।

◾সকাল বেলায় নগদ বেচাকেনা না করলে সারাদিন ব্যাবসা খারাপ যাবে এমন বিশ্বাস রাখা,

◾দোকানের কল্যাণের আশায় সন্ধ্যায় আগরবাতি জ্বালানো, 

◾পথে বের হওয়ার সময় কালো বিড়াল সামনে পরাকে অশুভ মনে করা, 

◾পেছন থেকে ডাকাকে অশুভ মনে করা, 

◾রাতের বেলায় নখ কাটাকে অশুভ মনে করা, 

◾পথে বের হওয়ার সময় কোন কিছুর সাথে হোঁচট খেয়ে পরাকে অশুভ মনে করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। 

◾ঝাটা, কুলা,ধান,দারিপাল্লা,ভাতের হাড়ি ইত্যাদিতে পা লাগাকে অশুভ মনে করা কিংবা এগুলোতে সালাম করা শিরক, 

◾আজানের সময় ঘর ঝাড়ু দেওয়া যাবে না এমন মনে করা, 

◾বাড়ির উপরে কাক, প্যাঁচা,কুক পাখি ডাকাকে কুলক্ষণের কারণ মনে করা, 

◾সন্ধ্যার পরে বাইরে কাপড় থাকলে জ্বিন/পেতনিরা কাপড়ে প্রসাব করে মনে করা, 

◾রাতের বেলা গাছের ফল-পাতা ছেড়া বা কোন কিছু ধার দেওয়া যাবে না এমন মনে করা, 

◾খাবারের উচ্ছিষ্ট ও এঠো পানি ঘরের বাইরে ফেললে ফেরেসতা আসে না এমন বিশ্বাস করা, 

◾সন্ধ্যাবাতি না জ্বালালে বিপদের কারণ মনে করা।  

◾হাতে তিল থাকলে রান্না ভালো হয়, গলায় তিল থাকলে হত্যা করা হয় এভাবে তিলকে কেন্দ্র করে নানান ধারণা পোষণ করা , 

◾ডান হাত চুলকালে টাকা আসে ও বাম হাত চুলকালে টাকা ব্যয় হয় ধারণা পোষণ করা, 

◾কুটুম পাখি ডাকলে,কারও কথার সাথে কথা মিলে গেলে,হাত থেকে চিরুনী পরে গেলে মেহমান আসবে ধারণা পোষণ করা, 

◾হাত থেকে কিছু পরে যাওয়াকে অমঙ্গল মনে করা, 

◾হঠাৎ বাম চোখ কাপলে দুঃখ বা বিপদ আসবে মনে করা, ◾স্ত্রীর নাকফুল বা চুড়ি না পরাকে স্বামীর অমঙ্গলের কারণ মনে করা, 

◾পুরুষদের নাক ঘামা ও বুকে লোম থাকাকে স্ত্রীর ভালোবাসার লক্ষণ মনে করা , 

◾মাথায় মাথায় গুঁতা লাগলে দ্বিতীয় বার গুঁতা না দিলে মাথায় শিং গজাবে বলা বা ধারণা করা, 

◾গলায় কাটা বিঁধলে বিড়ালের পা ধরতে হবে মনে করা, ◾চৈত্র মাসে/মহররম মাসে/শনিবারে/জন্মের মাসে বিবাহ করা যাবে না ধারণা পোষণ করা, 

◾বিবাহে বর বধুকে বা সুন্নাতে খাতনায় কুলা/ঘাস/আগুন/হলুদ/সাবান ইত্যাদি দিয়ে আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে বরণ করা, 

◾পিঁপড়া/পোড়াভাত খেলে সাতার শেখা যায় মনে করা, ◾শুকরের নাম মুখে নিলে ৪০ দিন মুখ নাপাক থাকে এরকম মনে করা, 

◾ভাতের প্লেটে ভাত একবার নেওয়াকে কুলক্ষণ মনে করা, ◾খাবার গলায় আঁটকে হাঁচি কাশি আসলে তাকে কেউ স্মরণ করছে ধারণা করা, 

◾কারও কথা বলতে বলতে সে উপস্থিত হলে সে দীর্ঘজীবী হবে বা তার হায়াৎ বৃদ্ধি পায় ধারণা পোষণ করা, ◾ভাই-বোন/স্বামী-স্ত্রী/গর্ভবতী নারী পশু জবেহ করতে পারবে না এরকম মনে করা, 

◾চোখে গোটা বা আঞ্জন হলে ছোট বাচ্চাদের লজ্জাস্থান স্পর্শ করালে ভালো হয় ধারণা করা, 

◾ব্যাঙ ডাকলে বৃষ্টি আসে/টিকটিকি ডাকলে সে সত্য বলেছে মনে করা, 

◾বৃষ্টি ও রোদ একসাথে হলে খেক শিয়ালের বিয়ে ধারনা করা, 

◾ছোট বাচ্চাদের দাঁত পরে গেলে সেই দাঁত ইঁদুরের গর্তে ফেলে ইঁদুরের কাছে ইঁদুরের মতো চিকন দাঁত চাওয়া, 

◾নজর লাগা বা অকল্যাণের ভয়ে শিশুদের কপালে কালো টিপ দেওয়া

◾জমজ কলা খেলে জমজ বাচ্চা হয় মনে করা, পরীক্ষার আগে ডিম বা রসগোল্লা খেলে পরীক্ষা খারাপ হয় মনে করা, 

◾ভাঙা আয়না/ভাঙা চিরুনী/ভাঙা গ্লাস বা প্লেইট ইত্যাদির ব্যবহারকে অমঙ্গল মনে করা, 

◾দা-কাঁচি-ছুরি বা কোন ব্যাক্তিকে ডিঙিয়ে যাওয়াকে অপরাধ বা ক্ষতির কাওরণ মনে করা, 

◾বিবাহের সময় বিজোড় অংকের দেনমোহর না দেওয়াকে অমঙ্গল মনে করা, যেমনঃ এক লক্ষ এক টাকা। ◾একসিডেন্ট বা কুনজর থেকে বাঁচার জন্য গাড়ির পেছনে জুতা,স্যান্ডেল ঝুলানো, 

◾স্ত্রী ফরজ গোসল না করে কোন কাজ করতে পারে না যেমনঃ ভাত রান্না করা,ফল ফলাদি ছিড়তে পারে না,ঘর ঝাড়ু দিতে পারে না এরকম মনে করা শিরক।  [ আবু দাউদ হা/৩৯১০,তিরমিজি হা/১৬১৪, আবু দাউদ হা/১১৩৪, আবু দাউদ হা/৩৯১১ ]

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

ADS