কাফেররা দুনিয়ায় তুলনামূলক বেশি উন্নত,
কাফেররা দুনিয়াতে উন্নত, যেহেতু তাদের জন্য দুনিয়া এবং মুসলিমদের জন্য আখেরাত।
কাফেররা দুনিয়ার উন্নতি নিয়ে চিন্তা গবেষণা করে।
আর মুসলিমরা আখেরাত নিয়ে চিন্তা গবেষণা করে।
মুসলিমদের দুনিয়া উন্নত না হলেও তাদের আখেরাত উন্নত। কাফেরদের অবস্থা সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন,
“ওরা পার্থিব জীবনের বাহ্য দিক সম্বন্ধে অবগত, অথচ পরলৌকিক জীবন সম্বন্ধে ওরা উদাসীন।”
(রুমঃ ৭)
আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)বলেছেন, ‘জাহান্নামকে কামনা-বাসনা দ্বারা ঢেকে রাখা হয়েছে। আর জান্নাতকে ঢেকে রাখা হয়েছে বিপদ-মুছীবত দ্বারা।
(বুখারী, মুসলিম, মিশকাত-৫১৬০)
একদা দুই জাহানের বাদশাহ নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) চাটাই এর উপর হেলান দিয়ে শুয়ে ছিলেন। তার পার্শ্বদেশে চাটাই এর স্পষ্ট দাগ পড়ে গিয়েছিল। এবং পিছনে ছিল খেজুর গাছের চোকার বালিশ! তা দেখে উমার (রাঃ) কেঁদে ফেললেন। আল্লাহর রাসুল (সাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, “হটাৎ কেঁদে উঠলে কেন, হে উমার?” উমার বললেন, আল্লাহর রাসুল! পারস্য ও রোম সম্রাট কত সুখ বিলাসে বাস করছে। আর আপনি আল্লাহর রাসুল হয়েও এ অবস্থায় কালাতিপাত করছেন?আপনি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করুন, যেন তিনি আপনার উম্মাতকে পার্থিব সুখ সম্পদে সমৃদ্ধ করেন। পারস্য ও রোমবাসীদেরকে আল্লাহ দুনিয়ার সুখ সামগ্রী দান করেছেন, অথচ তারা তার ইবাদত করে না!’
এ কথা শুনে মহানবী (সাঃ) হেলান ছেড়ে উঠে বসলেন এবং বললেন, “হে উমার! এ ব্যাপারে তুমি এমন কথা বল? ওরা হল এমন জাতি, যাদের সুখ সম্পদকে এ জগতেই ত্বরান্বিত করা হয়েছে। তুমি কি চাও না যে, ওদের সুখ ইহকালে আর আমাদের সুখ পরকালে হোক?”
(বুখারি-৫১৯১, মুসলিম, ইবনে মাজাহ, সহিহুল জামে-১৩২৭)
আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)বলেছেন, ‘দুনিয়া মুমিনের জন্য জেলখানা এবং কাফেরের পক্ষে জান্নাত"।
(মুসলিম, মিশকাত-৫১৫৮)
সাহল ইবনে সা‘দ (রাঃ) বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, "যদি দুনিয়ার মূল্য আল্লাহর কাছে মাছির একটি পাখার সমমূল্য হত, তা‘হলে তিনি কোন কাফিরকে এক ঢোকও পানি পান করতে দিতেন না"।
(আহমাদ, মিশকাত-৫১৭৭)
উক্ত প্রশ্নের জন্য এই হাদিসসমূহ'ই যথেষ্ট। আল্লাহ আমাদের পরকালমুখী হওয়ার তৌফিক করুক,আমিন!

0 মন্তব্যসমূহ