অমুসলিমদের তৈরিকৃত জঘন্যতম কাজসমূহকে মুসলিমরা আজ সুন্নাহ মনে করছে?
নেতার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা যেমন হারাম তেমনি সাধারণ ব্যক্তির মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হারাম
🎤 শাইখ মতিউর রহমান মাদানী (হাফিজাহুল্লহ)
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
অমুসলিমদের তৈরিকৃত জঘন্যতম কাজসমূহকে মুসলিমরা আজ সুন্নাহ মনে করছে!
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (র) নাবী ﷺ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন:
🔴 অবশ্য অবশ্যই তোমরা তোমাদের আগের লোকেদের নীতি-পদ্ধতিকে বিঘতে বিঘতে, হাতে হাতে অনুকরণ করবে।
এমনকি তারা যদি দবের গর্তে ঢুকে, তাহলে তোমরাও তাদের অনুকরণ করবে। আমরা বললাম, হে আল্লহর রসূল! এরা কি ই-য়া-হূদী ও নাসারা❓ তিনি বললেন: আর কারা❓[1]
[সহিহ বুখারী (তাওহীদ) ৭৩২০, ৩৪৫৬; সহিহ মুসলিম ৪৭/৩, হাঃ ২৬৬৯, আহমাদ ১১৮০; ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮২১]
[1] মুসলিমরা নিজেদের আদর্শ ত্যাগ করে ক্রমশ অমুসলিমদের নীতি পদ্ধতি গ্রহণ করছে। অশ্লীলতা, নাচ, গান, বাদ্য, নারীদের অধিকারের নামে উলঙ্গপনা, বিভিন্ন দিবস পালন, 31st night, valentine day, secularism, ভাস্কর্যের নাম দিয়ে মূর্তি পূজার বিস্তৃতি, এক মিনিট নীরবতা, party politics, নারী দেহ সম্বলিত বিজ্ঞাপন ইত্যাদি আজ মুসলিমদেরকে গ্রাস করে ফেলেছে।
মুসলিমদের প্রতিটি ঘরে ঘরে নগ্ন ছায়াছবি দেখা হচ্ছে। মুসলিমরা জুমার ফরজ স্বলাত বাদ দিয়ে ক্রিকেট খেলা ও খেলা দেখাকে ফরজ করে নিয়েছে। মুসলিমের প্রধান পরিচয় হচ্ছে দুনিয়ার ভোগ বিলাসের তুলনায় আখিরাতকে প্রাধান্য দান। কিন্তু আজ তারা দুনিয়ার ভোগ বিলাসকেই প্রকৃত জীবন মনে করছে। তারা আজ অমুসলিমদের অনুগত গোলামের মত কাজ করছে।
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
⭕ চল্লিশা বা বাৎসরিক শোক পালন শরীয়ত পরিপন্থী
.
প্রশ্ন: শোক পালনের ক্ষেত্রে চল্লিশা, বাৎসরিক পালন এবং কুরআন তেলাওয়াত (কুরআন খানী) ইত্যাদি রেওয়াজের হুকুম কি❓
উত্তর:
শরীয়তে এ সমস্ত ইবাদতের যেমন কোনো স্থান নেই 🚫 , তেমনি এর কোনো ভিত্তিও নেই বরং তা বিদ‘আত এবং জাহেলী যুগের কাজ। কেউ মারা গেলে শোক পালনের জন্য আত্মীয় স্বজন এবং পাড়া প্রতিবেশীদেরকে দাওয়াত করে খাওয়ানো ঠিক নয় 🚫 বরং বিদ‘আত।
এমনিভাবে সাপ্তাহিক বা বাৎসরিক অনুষ্ঠান করা জাহেলিয়া যুগের বিদ‘আত। মৃতের পরিবারের সদস্যদের করণীয় হলো ধৈর্য্য ধারণ করে পূণ্যের আশা করা এবং ধৈর্যশীলদের মত বলা (ইন্না লিল্লাহি ওয়া-ইন্না ইলাইহি রজি‘উন)। মহান আল্লহ তাদেরকে অঙ্গীকার দিয়েছেন, তাদের উপর তাদের রবের পক্ষ থেকে রহমত নাযিল হবে এবং তারাই হেদায়েত প্রাপ্ত। [সূরো বাকারো ১৫৭] কিন্তু মৃত ব্যক্তির লোকেরা তাদের নিজেদের জন্য খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করলে কোনো অসুবিধা নেই।
♦️ মুসলিমদের জন্য বৈধ কাজ হলো:
তাদের কেউ মারা গেলে তার জন্য আল্লহর নিকট ক্ষমা চাওয়া এবং রহমত কামনা করা। আর এ সমস্ত জাহেলিয়া যুগের অনুষ্ঠানাদি ছেড়ে দেওয়া।
আত্মীয় স্বজন এবং প্রতিবেশীদের জন্য করণীয় হলো:
মৃতের পরিবারের জন্য খাবার তৈরী করা, কেননা তারা বিপদগ্রস্ত।
আব্দুল্লহ ইবন জা‘ফর ইবনু আবু তালিব রদিয়াল্লহু ‘আনহু এর হাদীসে এসেছে যে, “জা’ফর (রদিয়াল্লহু ‘আনহু) যখন মুতার যুদ্ধে শহীদ হন তখন নাবী ﷺ মাদীনায় তাঁর পরিবারকে নির্দেশ দিলেন জা‘ফরের পরিবারের জন্য খাবার তৈরী করতে, তিনি বলেছিলেন: কেননা তাদের উপর সেই জিনিস এসেছে যা তাদেরকে ব্যস্ত রাখবে।”
কিন্তু মৃতের পরিবার অন্য লোকদের জন্য খাবার তৈরী করবে না 🚫। তারা যদি তাদের নিজেদের জন্য বা দূরবর্তী মেহমানদের জন্য তৈরী করে তাহলে কোনো অসুবিধা নেই।
🎤 উত্তর প্রদানে:
আল্লমাহ আব্দুল আজিজ ইবনু আব্দুল্লহ ইবনু বায (রহিমাহুল্লহ)
সাবেক Grand Mufti, 🇸🇦 KSA
📗 গ্রন্থ: বিদ‘আত ও এর মন্দ প্রভাব
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ইদরীস আলী মাদানী

0 মন্তব্যসমূহ