Header Ads Widget

AMAZON

যখন হারামটাকে সম্মান করা হয়, আর হালালকে করা হয় অপমান?

              আমরা এমন একটা সময়ে বাস করছি, যখন হারামটাকে সম্মান করা হয়,

                                             আর হালালকে করা হয় অপমান





■▪যেমনঃ আপনি ঘি বিক্রি করবেন-যার দাম পছন্দ হয়নি সে টিটকারি মেরে বলবে, "ভালোই ব্যবসা শুরু করেছেন!" 

●▪অথবা বলবে, "ধান্দাবাজ!"


■▪অথচঃ ব্যবসা মানেই হচ্ছে, কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করা! মাঝখানের তফাতটা হচ্ছে লাভ!


■■ ইসলামের দৃষ্টিতে এই লাভের কোনো সীমা দেওয়া নেই। একেকটা পণ্যের মুনাফার হার একেকরকম হবে। 


■▪যেমনঃ আপনি ভাতের চাল ৫০ টাকায় কিনে ৫২ টাকায় বিক্রি করবেন। মাত্র ২ টাকা লাভ বা শতকরা- ৪% মুনাফা। আপনার ছোট্ট মুদি দোকানেও দিনে ২০০ কেজি চাল বিক্রি হবে এলং লাভ হবে ৪০০ টাকা। 


■▪কিন্তু পোলাওয়ের চাল দিনে ১০ কেজি বিক্রি হয় কিনা তার ঠিক নেই! যেখানে ভাতের চালে প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা ক্যাশ হয়ে যাচ্ছে, সেখানে পোলাওয়ের চাল মাত্র ৫০ কেজি চালের একটা বস্তা বিক্রি করতে পাঁচ দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে! অর্থাৎ আপনি ৬,০০০ টাকা দিয়ে এক বস্তা চাল কিনতে বিনিয়োগ করলে, সেই টাকাটা উঠে আসতে সময় লাগছে কমপক্ষে পাঁচ দিন। এই জন্য দোকানিরা ৮০ টাকায় পোলাওয়ের চাল কিনে ৯৫ টাকায় বিক্রি করে। যার শতকরা লাভ -১৮%। 


■■ এখন আপনি যদি চোখ উল্টে বলেন, বাপরে! এত লাভ! তখন কিন্তু আপনি শুধুমাত্র মুনাফার হারটাই দেখছেন, কিন্তু বিনিয়োগকৃত টাকা দেখছেন না! চালটা দোকানেরযে জায়গাটা দখল করে রাখছে, সেটার ভাড়া দেখছেন না! ইদুঁর যদি চালের বস্তা কেটে ফেলে, তখন কতটা লস হয় সেটাও দেখছেন না!


■■ ইসলামের সৌন্দর্য হচ্ছে এই যে, ইসলাম খুবই প্র্যাগম্যাটিক একটা ধর্ম। প্যারাসিটামল আর হার্টের রিং এর প্রফিট মার্জিন এক হতে হবে এধরণের অবাস্তব বোকামি ইসলাম করতে বাধ্য করে না। 


■▪ইসলাম যেটা নিশ্চিত করতে চায় সেটা হচ্ছে, মার্কেট যেন মুক্ত থাকে। কেউ যদি দেখে হার্টের রিং এর ব্যবসায়ে অনেক লাভ, তাহলে সে জন্য কেউ যেন এই ব্যবসায় আসতে পারে। 


■▪যখন একই ধরণের ব্যবসা অনেকে করবেন, তখন প্রতিযোগীতা হবে, পণ্যের দাম কমে যাবে। তখন কেউ সিন্ডিকেট করে বাজারে পণ্য দুর্লভ করতে পারবে না। আর নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস এবং খাবার স্টক করতে পারবে না। 


■■ আমাদের দেশে কেউ যখন সুদ খাচ্ছে, তখন সেটাকে একটা সুগার কোটিং দিয়ে বলা হয়, মুনাফা বা ইন্টারেস্ট। অথচঃ আদতে ব্যাপারটা হচ্ছে আল্লাহ এবং তাঁর রসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা। ব্যাপারটা হচ্ছে আপন মায়ের সাথে ব্যভিচার করার সমান পাপ! কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়টি হচ্ছে, খুব নামায-কালাম পড়নেওয়ালা মানুষও মেয়েকে বিয়ে দেয় সুদী ব্যাংকারের সাথে!


■▪ঘুষ খেয়ে পেট মোটা করে ফেলা সব সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর সামনে গিয়ে মানুষ "স্যার, স্যার" করে! আর রাস্তার ধারে সবজি বিক্রেতাকে মানুষ ডাকাত বলে ডাকে!


■▪যে ব্যবসায়ীটা পঞ্চগড় থেকে ফুলকপির ট্রাকের উপরে চড়ে কারওয়ানবাজারে আসে আমাদের জন্য, আমরা তাকে মধ্যস্বত্বভোগী বলে গালি দিই! কিন্তু যারা কলমের খোঁচায় ডিজেলের দাম বাড়িয়ে সেই টাকাটা সরকারের নেওয়া ঋণের সুদের হার মেটাতে খরচ করে, তাদের দোষ আমরা দেখতেই পাই না!


■▪তিনশ কিলোমিটার পথে ১৩ জায়গায় হাজার টাকার ওপরে চাঁদা দেওয়া লাগে যাদের, তাঁদেরকে আমরা "জনগণের বন্ধু" বলি! 


■■ অথচঃ মহান আল্লাহ তা'আলা কুরআনুল কারীমে স্পষ্ট করে বলেছেন, সুদ, ঘুষ ও যিনা-ব্যভিচার স্পষ্ট ভাবে নিষিদ্ধ এবং হারাম। আর ব্যবসা সম্পূর্ণ হালাল। আর সৎ ব্যবসায়ীদেরকে উত্তম মানুষ হিসেবে ঘোষণা করে এবং তাঁদের জন্য বিভিন্ন পুরস্কারের কথা ঘোষণা করে বিভিন্ন হাদীস বর্ণনা করা হয়েছে! এমনকি হাদীসে বলা হয়েছে, দুনিয়ার সকল রিযিকের মধ্যে সত্তর ভাগ রিযিক সৎ ব্যবসায়ীদের কারণে নাযিল হয়ে থাকে!


■■ হারামকে হালাল মনে করা স্পষ্ট কুফর। হালালকে হারাম মনে করাও তদ্রুপ কুফর। 

■▪হালালকে অপমান করা, আর হারামকে সম্মান করা তাহলে কী হবে? 


■■ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে, ব্যবসার প্রতি মানুষের এই নেতিবাচক মনোভাব!


■▪চুরি করাটা যে দেশে স্মার্টনেস, ব্যাংক থেকে ঋণ করে পালিয়ে যাওয়াটা যেখানে বনেদিয়ানা, ক্ষমতার দাপটে বাজার কারসাজি করা যেখানে আভিজাত্য! সেখানে ব্যবসা থাকবে না--এটাই স্বাভাবিক!


■▪আর ব্যবসা না থাকলে কর্মসংস্থানও হবে না। গরিবী বাড়বে এবং বাড়বে দাসত্ব!

■▪আমরা আমাদের করা কুফরির শাস্তি হাতে-নাতে পাচ্ছি, তাই না!?


■▪মহান আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবাইকে সঠিক এবং পরিপূর্ণ ভাবে জানার, বোঝার এবং মেনে চলার তাওফীক দান করুন এবং আমাদের সবাইকে ক্ষমা, কবুল ও হিফাযত করুন(আ-মীন)।।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

ADS