আরবি নতুন বছরের শুরুতেই করে ফেলুন আপনার নতুন রুটিন। আর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে আরবি মাসের হিসেবে রেখে ছোট ছোট আমল নিয়মিত করার চেস্টা করুন।
এই ১২টি ফজিলতপূর্ণ আমল যা আপনার সারাবছরের_ই দৈনন্দিন রুটিনে থাকা উচিত :
★আমলঃ- ১
প্রত্যেক ফরজ নামাজ শেষে "আয়াতুল কুরসি' পাঠ করা।
ফজিলতঃ-
আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ সলাতের পর আয়াতুল কুরসী পাঠ করে, মৃত্যু ছাড়া আর কোন কিছুই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করা থেকে বিরত রাখতে পারবে না।”
👉[নাসাঈ, ইবনু হিব্বান, হাদীসটি সহীহ, শায়খ আলবানী]
.
★আমলঃ- ২
প্রতিদিন মাত্র বারো রাকাত সুন্নাত নামাজ; প্রতিদান হল "জান্নাতের মহল"।
আম্মাজান আয়েশা (রাযিঃ) হইতে বর্নিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ১২ রাকাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ নামাজ নিয়মিত আদায় করবে তার জন্য আল্লাহতায়ালা জান্নাতে মহল নির্মান করবেন।
সুন্নাত নামাজগুলো হলো:
৪ রাকাত যোহরের পূর্বে, ২ রাকাত যোহরের পর, ২ রাকাত মাগরিবের পর, ২ রাকাত ইশার পর, ২ রাকাত ফজরের পূর্বে।
👉[সুনানে নাসায়ী, তিরমিযী]
.
★আমলঃ- ৩
প্রত্যেক ফরজ নামাজ শেষেঃ-
৩৩ বার সুবহানাল্লাহ,
৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ্,
৩৩ বার আল্লাহু আকবার
এবং ১বার এই দোয়াটি পড়া "লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন কাদীর" পাঠ করে সর্ব মোট ১০০বার পূর্ণ করবে তার সমস্ত গুনাহ মাফ হইয়া যাবে যদিও তা সমুদ্রের ফেনার সমতুল্য হয়।
👉(মুসলিম, মিশকাত তাহকীক ৯৬৭/৩০৫)
.
★আমলঃ- ৪
প্রত্যেক ওযুর পর কালেমা শাহাদাত পাঠ করা।
"উচ্চারনঃ-আশহাদু আল্লাহ ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু ওয়াশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়ারাসুলূহু'
ফজিলতঃ-
"যে ব্যাক্তি ওযু করার পড় কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করবে ঐ ব্যাক্তির জন্য জান্নাতের ৮টি দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং যে কোন দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে:
👉[সহিহ মুসলিম, হাদিস নং-২৩৪]
.
★আমলঃ- ৫
প্রত্যেক সকাল ও সন্ধ্যায় সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার পাঠ করা। ক্ষমার শ্রেষ্ঠ দুয়া।
~~~
রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে এই দো‘আ পাঠ করবে, দিনে পাঠ করে রাতে মারা গেলে কিংবা রাতে পাঠ করে দিনে মারা গেলে, সে জান্নাতী হবে’।
ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺃَﻧْﺖَ ﺭَﺑِّﻰْ ﻵ ﺇِﻟﻪَ ﺇﻻَّ ﺃَﻧْﺖَ ﺧَﻠَﻘْﺘَﻨِﻰْ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻋَﺒْﺪُﻙَ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻋَﻠﻰ ﻋَﻬْﺪِﻙَ ﻭَﻭَﻋْﺪِﻙَ ﻣَﺎ ﺍﺳْﺘَﻄَﻌْﺖُ، ﺃَﻋُﻮْﺫُﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﺷَﺮِّﻣَﺎ ﺻَﻨَﻌْﺖُ، ﺃﺑُﻮْﺀُ ﻟَﻚَ ﺑِﻨِﻌْﻤَﺘِﻚَ ﻋَﻠَﻰَّ ﻭَﺃَﺑُﻮْﺀُ ﺑِﺬَﻧْﺒِﻰْ ﻓَﺎﻏْﻔِﺮْﻟِﻰْ، ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻻَﻳَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﺬُّﻧُﻮْﺏَ ﺇِﻻَّ ﺃَﻧْﺖَ -
উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা আনতা রববী লা ইলা-হা ইল্লা আনতা খলাক্বতানী, ওয়া আনা ‘আবদুকা ওয়া আনা ‘আলা ‘আহদিকা ওয়া ওয়া‘দিকা মাসতাত্বা‘তু, আ‘ঊযুবিকা মিন শাররি মা সানা‘তু। আবুউলাকা বিনি‘মাতিকা ‘আলাইয়া ওয়া আবূউ বি যাম্বী ফাগফিরলী ফা ইন্নাহূ লা~ ইয়াগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা আনতা।
👉[সহীহ বুখারী ৬৩০৬]
.
★আমলঃ- ৬
সুরা ইখলাস পাঠ করা – ১০ বার, না পারলে প্রতিদিন অন্তত ৩ বার।
ফজিলতঃ- আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে রাতে বারবার সুরা আল-ইখলাস পড়তে শুনেছেন। অতঃপর সকালে মহানবী (সা.)-কে এ বিষয়টি অবহিত করা হলো। মহানবী (সা.) তখন বলেন, ওই সত্তার শপথ, যার কুদরতের হাতে আমার জীবন, অবশ্যই এ সুরা কোরআন মাজিদের এক-তৃতীয়াংশের সমান।
👉(সহিহ বুখারি : ৫০১৩, আবু দাউদ : ১৪৬১, নাসায়ি : ২/১৭১, মুআত্তা মালেক : ১/২০৮
.
★আমলঃ- ৭
প্রত্যেক নামাজের পর এবং দোআর আগে ১ বার করে দৈনিক মিনিমাম ১০ বার দরুদ শরীফ পাঠ করা।(দরুদে ইব্রাহিম যেটা নামাজে পড়া হয়, ঐটা পড়ার চেষ্টা করা।
(৫ ওয়াক্ত✘অন্তত ২বার করে=মোট ১০বার)
ফজিলতঃ- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার উপর দশবার রহমত বর্ষণ করবেন।”
👉[সহিহ মুসলিম: ৪০৮]
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যত্র বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ্ তার প্রতি ১০ বার রহমত বর্ষণ করবেন, ১০ টি গুনাহ মোচন করবেন এবং তার জন্য ১০ টি স্তর উন্নীত করবেন।’’
👉[নাসায়ি: ১২৯৭, মুসতাদরাক হাকিম: ১/৫৫০, সহিহ ইবনু হিব্বান: ৯০৪, হাদিসটি সহিহ]
অন্য বর্ণনায় বলা হয়েছে, একবার দরুদ পাঠ করলে আল্লাহ্ ৭০ বার তার প্রতি রহমত পাঠাবেন এবং ফেরেশতাগণ ৭০ বার রহমতের দু‘আ করবেন।
👉[মুসনাদ আহমাদ: ২/১৭২, আত তারগিব: ৬৮০, হাদিসটি হাসান]
.
★আমলঃ- ৮
"যে ব্যক্তি নিচের দু'আটি সকাল ও বিকাল তিনবার করে বলবে, আল্লাহর কাছে তার অধিকার হয়ে যায় তাকে কিয়ামতের দিন সন্তুষ্ট করা।"
কিয়ামতের দিনে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের দু'আটি হলো-
رَضِيْتُ بِاللّٰهِ رَبًّا، وَبِالْإِسْلاَمِ دِيْنًا وَّبِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَبِيًّا
উচ্চারণ: রদ্বীতু বিল্লা-হি রব্বান, ওয়াবিল ইসলা-মি দীনান, ওয়াবি মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামা নাবিয়্যান
অর্থ: আল্লাহকে রব, ইসলামকে দীন ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নবীরূপে গ্রহণ করে আমি সন্তুষ্ট।
দু'আটি সকালে ও সন্ধ্যায় তিন বার পড়তে হবে।
👉রেফারেন্স:
---------------
আহমাদ ৪/৩৩৭; নং ১৮৯৬৭; নাসাঈ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল-লাইলাহ, নং ৪; ইবনুস সুন্নী, নং ৬৮; আবু দাউদ, ৪/৩১৮, নং ১৫৩১; তিরমিযী ৫/৪৬৫, নং ৩৩৮৯।
.
★আমলঃ- ৯
১০০ বার সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি
যে ব্যাক্তি সকালে ও সন্ধ্যায় ১০০ বার করে ‘সুবহা-নাল্লা-হি ওয়া বিহামদিহী’ পড়বে।তার গোনাহ মাফ হইয়া যাইবে,যদিও তা সাগরের ফেনা থেকেও বেশী হয়’।
👉(বুখারী ও মুসলিম)
.
★আমলঃ- ১০
প্রতিরাতে সূরা মুলক পাঠ করুণ এতে কবরের শাস্তি থেকে মুক্তি পেয়ে যাবেন।
👉[সহিহ তারগিব,হাকিম ৩৮৩৯]
.
★আমলঃ- ১১
সুরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াত পড়া – রাতে ঘুমানোর আগে ১ বার।
সূরা বাকারা'র শেষ ২ টি আয়াতের ফজিলত:
যে ব্যক্তি রাতে 'সূরা বাকারা'র শেষ ২ টি আয়াত পাঠ করবে , তার জন্য সে দুটি যথেষ্ট হবে ।
সে রাতে অপ্রীতিকর জিনিসের মোকাবেলায় যথেষ্ট হবে বা তাহাজ্জুদ সলাতের সোওয়াব লাভ করবে ।
👉[রিয়াদুস স্বলেহীন হা/১০২৪ , বুখারী হা/৪০০৮ ]
নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা আসমান-যামীন সৃষ্টির দুই হাজার বছর পূর্বে একটি কিতাব লিখেছেন। সেই কিতাব হতে তিনি দু‘টি আয়াত নাযিল করছেন। সেই দু‘টি আয়াতের মাধ্যমেই সূরা আল-বাক্বারা সমাপ্ত করেছেন। যে ঘরে তিন রাত এ দু‘টি আয়াত তিলাওয়াত করা হয় শাইতান সেই ঘরের নিকট আসতে পারে না।
[জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২৮৮২]
.
★আমলঃ- ১২
রাতেরবেলাএকশতআয়াততেলাওয়াত
ফজিলত :
তামীম দারী রা.থেকে বর্ণিত , নবী(সা:)বলেছেন,
যে ব্যক্তি একরাতে ১০০টি আয়াত তেলাওয়াত করবে,সেই ব্যক্তিরর আমলনামায় ঐ রাতের ইবাদত বন্দেগী ও নফল সলাত এর সোয়াব লিপিবদ্ধ করা হবে।
👉সূত্র আহমদ:১৬৯৫৮,নাসাঈ কুরবা:১০৫৫৩, ত্বাবারানী:১২৩৮,সিলসিলাহ সহীহ :৬৪৪
Option 1 :
সুরা ইখলাস (ক্বুলহু আল্লাহ) ২৫ বার পরলে ১০০ আয়াত পড়া হয়,,
এই ফজিলত পূর্ণ আমল টি করবেনতো??
OPTION 2 :
১.সূরা মুলক--------------------৩০ আয়াত।
২.সূরা কাহাফ-------------------প্রথম১০আয়াত।
৩.সূরা ফাতিহা-------------------৭আয়াত।
৪.সূরা কাফিরুন-----------------৬আয়াত।
৫.সূরা ইখলাস(৩বার)--------------১২আয়াত।
৬.সূরা ফালাক(৩বার) --------------১৫ আয়াত।
৭.সূরা নাস(৩বার)--------------------১৮আয়াত।
৮.বাকারার শেষ (২আয়াত)--------২ আয়াত।
--------------------------------------------------------------------------
সর্বমোট =১০০আয়াত
★নবীজি (সা.) বলেছেন, রাতে (কুল ইয়া আইয়্যু হাল কা-ফিরুন) (অর্থাৎ সূরা কা-ফিরুন) পাঠ করা শির্ক থেকে মুক্তি পেতে উপকারী।
👉(সহীহ তারগীব-৬০২)
✪বি:দ্র: যেকোনো সূরার যেকোনো আয়াত হলেই হবে।উপরের আয়াত গুলো দেওয়ার কারণ হলো ঐগুলোর আলাদা কিছু ফজিলতও আছে তাই একসাথে দুই ফজিলত ই পাওয়া যাবে ইন শা আল্লাহ।
(কপি/পেস্ট,শেয়ার যা ইচ্ছা সদকায়ে জারিয়া হিসেবে করতে পারেন, কোন প্রকার ক্রেডিট লাগবে না)
সবশেষে #১২টি_আমলই রিপিট করা যাক এবং আপনারা রিমাইন্ডার হিসেবে নিচের অংশটুকু স্ক্রিনশট ও তুলতে পারেন :
১।আয়াতুল কুরসি
২।বারো রাকাত সুন্নাত নামাজ
৩।অযুর পর কালেমায়ে শাহাদাত
৪।৩৩ বার সুবহানাল্লাহ;৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ;৩৩ বার আল্লাহু আকবার; এবং ১ বার লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন কাদীর ।
৫।সকাল ও সন্ধ্যায় সাইয়িদুল ইস্তিগফার
৬।সুরা ইখলাস
৭।দশ বার মিনিমাম দরুদ শরীফ
৮।রদ্বীতু বিল্লা-হি রব্বান, ওয়াবিল ইসলা-মি দীনান, ওয়াবি মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামা নাবিয়্যান
৯।১০০ বার সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি
১০।রাতে সূরা মুলক
১১।রাতে সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত
১২।রাতের বেলা ১০০ আয়াত তেলাওয়াত
*ঘুমানোর আগে সূরা কাফিরুন ১ বার
জাযাকুমুল্লাহু খাইরান পুরো পোস্টটি পড়ার জন্যে।

0 মন্তব্যসমূহ